কিছুদিন আগে চ্যাড হারভার্টের ছেলে ড্যানিয়েলের বিনাইন রোল্যান্ডিক এপিলেপসি ধরা পড়ে। এটি এক ধরনের মৃগীরোগ , যা এপিলেপসি ফাউন্ডেশনের মতে, এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ১৫ শতাংশকে প্রভাবিত করে এবং এর একটি ভালো দিক হলো, তাদের বেশিরভাগই কোনো ধরনের খিঁচুনি ছাড়াই বড় হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, একটি সমস্যা আছে: ড্যানিয়েলের প্রায়ই গভীর রাতে বা খুব ভোরে, ঠিক ঘুমের মধ্যেই খিঁচুনি হয়। এটা খুবই বিপজ্জনক, তাই তার বাবা চ্যাড, ছেলেকে আরও ভালো জীবন দেওয়ার জন্য তার বিছানায় একটি স্লিপ মনিটর/অ্যালার্ম লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন । এই মনিটরটি তার খিঁচুনি হওয়ার সময় শনাক্ত করে।
এই কেনাকাটা করার পাশাপাশি, তিনি একটি আরডুইনো মাইক্রো দ্বারা চালিত নিজস্ব ডিআইওয়াই (DIY) অ্যালার্ম সিস্টেম তৈরি করার জন্য মনিটরটি কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। এর সূচনা হয়েছিল ' নক' (Knock ) প্রজেক্ট থেকে, যা মূলত ২০০৭ সালে ডেভিড কুয়ার্টিয়েলেস তৈরি করেন এবং ২০১১ সালে টম ইগোয়ে পরিমার্জন করেন। চ্যাড হারবার্টের নিজের ভাষ্যমতে :
আমার স্ত্রী যখন বাজারে একটি মনিটর/অ্যালার্ম কেনার জন্য খুঁজছিল, তখন আমি কিছু গবেষণা করছিলাম এবং কয়েকটি বিষয় জানতে পারলাম, যেমন— এগুলো খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন ; আমার মনে হয়, আমরা শেষ পর্যন্ত যেটা কিনেছিলাম, সেটা গ্রেট ব্রিটেনের একটি কোম্পানি তৈরি করেছিল; এগুলো খুব দামী ; দামটা শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ডলারের কাছাকাছি হয়েছিল; এবং এগুলো খুব অসুবিধাজনক। একবার লাগিয়ে ফেললে বোঝাই যায় না যে ওটা আছে, কিন্তু যদি ওটা সরাতে হয়, তবে তা একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ।
এই বিষয়গুলো বোঝার পর, আমি এমন একটি সাধারণ অ্যালার্ম তৈরির উপায় খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিলাম যা খিঁচুনির ক্ষেত্রে বেজে উঠবে এবং যা হবে সস্তা ও সহজে বহনযোগ্য। আমি নিশ্চিত যে এমন অনেকেই আছেন যাদের সন্তানরা খিঁচুনিতে ভোগে এবং যাদের এই ধরনের দামী সরঞ্জাম কেনার সামর্থ্য নেই, যদিও তাদের এটি সত্যিই প্রয়োজন । আর্ডুইনো কমিউনিটির মানুষদের ধন্যবাদ, যারা এই প্রকল্পটিকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছেন।
